নীট-ইউজি বিতর্ক ঘিরে বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ধর্মতলা, পুলিশ-আন্দোলনকারী সংঘর্ষের মাঝে আহত একাধিক সাংবাদিক; হাসপাতালে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর !
কলকাতা টাইমস নিউজ ডেস্ক :
নীট-ইউজি পরীক্ষাকে ঘিরে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়ল কলকাতার রাজপথেও। শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে নামে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ধর্মতলা। এই অশান্তির মধ্যেই সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক আহত হন। রাতে এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
দিনভর উত্তেজনার আবহে ধর্মতলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো, পানির বোতল ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারা হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মীর গায়ে জল ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এই সংঘর্ষের মাঝেই সংবাদ সংগ্রহে ব্যস্ত একাধিক সাংবাদিক বস্তুনিক্ষেপ, ধাক্কাধাক্কি এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে আহত হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁদের চিকিৎসা শুরু হয়।
রাতেই এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। চিকিৎসকদের কাছ থেকেও তিনি তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত খোঁজ নেন। হাসপাতালেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ঘটনার জন্য আন্দোলনকারীদের একটি অংশকে দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণও শানান। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের অশান্তির সঙ্গে প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই এবং আন্দোলনের আড়ালে অন্য উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতিকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি 'বিশেষ দিন' প্রসঙ্গও টেনে আনেন এবং সেই সূত্র ধরে রাজনৈতিক কটাক্ষ করেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবারের এই কর্মসূচির মূল দাবি ছিল নীট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে ওঠা প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। আন্দোলন চলাকালীন হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিযোগ ওঠে যে বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করেন। এরপরই পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। কিছু সময়ের জন্য ধর্মতলা ও সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে এসএফআই 'রাত জাগো, দেশ জাগো' কর্মসূচির ডাক দিলেও রাতের দিকে সেই অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির দাবি, তাঁদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশি হস্তক্ষেপের জেরেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছে এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
ধর্মতলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একদিকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সীমারেখা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন সংগঠনও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীট-ইউজি বিতর্ক এখন আর শুধু একটি পরীক্ষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা, শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের চরিত্র নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কোনও আন্দোলনের মধ্যেই সংবাদমাধ্যম বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বর্তমানে আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসা চলছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কারা এই হামলায় জড়িত ছিলেন, কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এখন সেই দিকেই নজর রাজ্যবাসীর।
Chief Minister Visits Injured Journalists After Violent NEET Protest in Kolkata, Warns of Strict Action Against Those Responsible
The controversy surrounding the NEET-UG examination spilled onto the streets of Kolkata on Friday as a protest at Dharmatala turned violent, leaving several journalists injured while covering the demonstration. Later in the night, Chief Minister Suvendu Adhikari visited the injured media personnel at SSKM Hospital, enquired about their condition and strongly condemned the alleged attacks on journalists.
The protest, organised over alleged irregularities in the NEET examination and demanding transparency in the examination process as well as the resignation of the Union Education Minister, witnessed large participation from student groups and activists. As demonstrators gathered near Dorina Crossing in Dharmatala, the situation escalated into clashes between protesters and police.
According to police, some protesters allegedly threw shoes, water bottles and other objects at security personnel, while several journalists covering the protest were also caught in the violence and sustained injuries during the chaos. Police later used baton charges and tear gas to disperse the crowd and restore order.
During his visit to SSKM Hospital, the Chief Minister met the injured journalists and spoke with doctors regarding their treatment. He condemned the alleged attacks on members of the media, stating that journalists performing their professional duties should never become targets of violence.
The Chief Minister also alleged that a particular section among the protesters was responsible for the violence and claimed that those involved had been identified. He indicated that strict legal action would be taken after the investigation and argued that the violence had no connection with a genuine student movement.
Meanwhile, protest organisers maintained that their demonstration was peaceful and alleged that the situation deteriorated following police intervention. They denied any organised attack on journalists and demanded an impartial inquiry into the entire incident.
The violence has triggered widespread debate over the safety of journalists, the conduct of public protests and the continuing controversy surrounding the NEET examination. Political reactions have intensified, while police have launched an investigation into the clashes and the attacks reported during the demonstration.
Continue With Google
Comments (0)