কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২২ ডিসেম্বর
ডিসেম্বর প্রায় শেষের পথে। ক্যালেন্ডার বলছে শীতের মরসুম, কিন্তু সেই অর্থে জাঁকিয়ে ঠান্ডার দেখা এখনও মেলেনি রাজ্যজুড়ে। যদিও গত কয়েক দিনে এক ধাক্কায় পারদ অনেকটাই নেমেছে। রবিবার ছিল এই মরসুমের সবচেয়ে ঠান্ডা ভোর, তবু টানা শীতের কামড় এখনও পুরোপুরি অনুভব করতে পারেননি রাজ্যবাসী। তবে বড়দিনের আবহেই বদলাতে পারে এই চিত্র—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে হাওয়া অফিস।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দিনে রাজ্যের তাপমাত্রায় বড় কোনও ওঠানামা না হলেও ২৪ ডিসেম্বরের পর থেকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা বাড়বে। উত্তুরে হাওয়ার গতি বাড়ার ফলে শীতের অনুভূতিও আরও তীব্র হবে। কিছু জেলায় রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।
India Meteorological Department জানাচ্ছে, সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় রাতের তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। তবে পশ্চিমের জেলাগুলিতে শীতের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হবে। Bankura, Purulia ও Jhargram-এ রাতের তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রির ঘরেও নেমে যেতে পারে। বড়দিন পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলেই পূর্বাভাস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা শীতের পর্ব শেষ হয়ে এবার ধাপে ধাপে দীর্ঘ শীতের ইনিংস শুরু হতে পারে। উত্তুরে হাওয়ার দাপট বাড়লেই সকালের ঠান্ডা আর রাতের কনকনে ভাব আরও স্পষ্ট হবে।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি North Bengal-এও ধীরে ধীরে পারদ নামছে। বড়দিনের পর থেকে Darjeeling, Kalimpong, Jalpaiguri, Alipurduar এবং Cooch Behar-এ শীত আরও জাঁকিয়ে বসতে পারে। পাহাড়ি এলাকাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
স্বস্তির খবর, আপাতত বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী সাতদিন রাজ্যের কোথাও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়নি হাওয়া অফিস। তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও আচমকা বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।
তবে তাপমাত্রা নামার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভোরের দিকে কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারেরও নীচে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবার সকাল থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে পড়েছিল Netaji Subhas Chandra Bose International Airport।
যদিও কুয়াশা সত্ত্বেও বড় কোনও উড়ান বাতিল হয়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, অত্যাধুনিক আলোক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উড়ান পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। সকাল আটটা নাগাদ বিমানবন্দরের সাধারণ দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় ৬০০ মিটার, আর মূল রানওয়ের দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় ১,০০০ মিটার। ফলে বিমান চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা যায়নি।
সব মিলিয়ে বড়দিনের পর থেকেই রাজ্যে শীতের লম্বা ইনিংস শুরু হতে পারে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি। আপাতত ভারী শীত না এলেও, ধীরে ধীরে পারদ নামা আর উত্তুরে হাওয়ার দাপটেই স্পষ্ট হচ্ছে—এই ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই শীত তার পুরো রূপ দেখাতে শুরু করবে।
Continue With Google
Comments (0)