কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  :কলকাতা :১৯মার্চ ২০২৬

 আরজি কর কাণ্ডে উত্তাল হওয়া রাজ্য রাজনীতি এবার নতুন মোড় নিতে চলেছে। সেই বহুচর্চিত ঘটনার নির্যাতিতার মা-ই কি এবার সরাসরি নির্বাচনের ময়দানে নামছেন? জল্পনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র। সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়তে পারেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি বিজেপি, তবু এই সম্ভাবনাই ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন ফেলেছে।

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। অভিযোগ উঠেছিল ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসক সমাজ—সবাই। প্রথমে রাজ্য পুলিশের সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলাটি যায় সিবিআইয়ের হাতে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল নির্যাতিতার পরিবার।

শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি শিয়ালদহ আদালতে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক অনির্বাণ দাস। তবুও তদন্তের নানা দিক নিয়ে এখনও প্রশ্ন তুলছে নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত সত্য সামনে আসেনি পুরোপুরি, এবং ন্যায়বিচারের লড়াই এখনও অসম্পূর্ণ।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। নির্যাতিতার বাবা এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অনেক দিন ধরেই বিজেপির তরফে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে একাধিকবার আলোচনার পরেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাঁর স্ত্রীকে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হতে পারে। যদিও প্রস্তাবদাতার পরিচয় নিয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি, একে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলেই এড়িয়ে গিয়েছেন।

তবে কেন এই রাজনৈতিক পথে আসা? সেই প্রশ্নের উত্তরে নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, তাঁদের মূল লক্ষ্য একটাই—ন্যায়বিচার আদায় করা এবং মানুষের জন্য কাজ করা। তাঁর কথায়, “আমাদের মেয়ের জন্য যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা যেন আরও শক্তিশালী হয়, সেই কারণেই আমরা এই পথে নামার কথা ভাবছি। নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।” তাঁর বিশ্বাস, রাজনৈতিক ময়দানে প্রবেশ করলে তাঁদের ন্যায়বিচারের লড়াই আরও জোরদার হবে।

পানিহাটি কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। এখানে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন তীর্থঙ্কর ঘোষ, অন্যদিকে সিপিএমের তরফে লড়বেন কলতান দাশগুপ্ত। সেই জায়গায় আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মায়ের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিঃসন্দেহে ভোটের অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

একদিকে সহানুভূতির আবেগ, অন্যদিকে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন—এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখে এই প্রার্থিতা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার। তবে এটা স্পষ্ট, আরজি করের ঘটনা শুধুমাত্র একটি অপরাধের সীমায় আটকে থাকেনি, তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরেও গভীর ছাপ ফেলেছে। আর সেই ছাপই এবার ভোটের লড়াইয়ে নতুন রূপ নিতে চলেছে।