কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২২ ডিসেম্বর

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অশান্তি ঘিরে কূটনৈতিক স্তরে স্পষ্ট বার্তা দিল নয়াদিল্লি। ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত জানাল—এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতেই হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারত, এমনটাই স্পষ্ট করল বিদেশ মন্ত্রক।

উল্লেখ্য, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর অন্যতম মুখ Osman Hadi ওরফে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশের একাধিক এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, এই অস্থিরতার মধ্যেই ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর, বিক্ষোভ এবং উত্তেজনার ছবিও সামনে আসে।

রবিবার এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র Randhir Jaiswal। তিনি জানান,
“বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপর গভীরভাবে নজর রাখছে ভারত। আমাদের আধিকারিকরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।”

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, দীপুচন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড ভারতের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই নৃশংস ঘটনায় দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার আবেদন জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে হওয়া বিক্ষোভকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।

রণধীর জয়সওয়ালের কথায়, “২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ২০–২৫ জন তরুণ জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসের হত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। দূতাবাসে জোর করে ঢোকার কোনও চেষ্টা হয়নি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।”

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যেই রয়েছে এবং বাস্তব ঘটনা যাচাই করলেই অপপ্রচারের অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে যায়।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, ভারতে অবস্থিত সব বিদেশি দূতাবাস ও কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ নতুন নয়। এই প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল জানান,“বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিষয়টি আমাদের গভীর উদ্বেগের জায়গা। আমরা সে কথা স্পষ্টভাবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত একদিকে মানবাধিকার প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট করল, অন্যদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দায়িত্বশীল বার্তাও দিল।

দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভারতের এই প্রতিক্রিয়া শুধু একটি ঘটনার প্রতিবাদ নয়—এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিয়ে একটি শক্ত কূটনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।