কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৩ ডিসেম্বর

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবনতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসকেই দায়ী করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, ক্রমবর্ধমান হিংসা এবং ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনগুলিকে ঘিরে হুমকির আবহ—সব কিছুর জন্যই ইউনুস-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন তিনি।

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ভারত সরকার বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভিড়ের হিংসা, এক হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা এবং ভারতীয় কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থীদের হুমকি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে নয়াদিল্লি।

এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন,“ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের যে অবনতি আজ সবাই দেখছে, তার সম্পূর্ণ দায় ইউনুসের সরকারের। একদিকে ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ বক্তব্য, অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় ব্যর্থতা—তার উপর আবার চরমপন্থীদের হাতে বিদেশনীতি তুলে দেওয়া হচ্ছে। এরপর উত্তেজনা বাড়লে বিস্ময় প্রকাশ করা নিছক ভণ্ডামি।”

হাসিনার অভিযোগ, ইউনুস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার চরমপন্থী শক্তিগুলিকে মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এর ফলেই দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কেও ফাটল ধরছে।

ভারতকে বাংলাদেশের “দশকের পর দশক ধরে সবচেয়ে দৃঢ় বন্ধু ও সহযোগী” বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়,“দুই দেশের সম্পর্ক কোনও অস্থায়ী রাজনৈতিক বন্দোবস্তের উপর দাঁড়িয়ে নেই। এর ভিত গড়া ইতিহাস, রাজনীতি এবং কৌশলগত বাস্তবতায়।”

তিনি আরও বলেন, বৈধ ও নির্বাচিত সরকার ফিরে এলে বাংলাদেশ আবারও ভারতের সঙ্গে সেই বাস্তববাদী ও গঠনমূলক অংশীদারিত্বের পথেই ফিরবে, যা তাঁর ১৫ বছরের শাসনকালে তৈরি হয়েছিল।

শেখ হাসিনার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বেড়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে বিক্ষোভ, সংবাদমাধ্যমের অফিসে হামলা—সব কিছুর পিছনেই রয়েছে উগ্রপন্থী শক্তি, যারা এই সরকারের সময় আরও সাহসী হয়ে উঠেছে।

হাসিনা বলেন,“এই তারাই ভারতীয় দূতাবাসে মিছিল করেছে, মিডিয়া অফিসে হামলা চালিয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের উপর নির্দ্বিধায় আক্রমণ করেছে। এদেরই কারণে আমাকে এবং আমার পরিবারকে প্রাণভয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল।”

তিনি আরও দাবি করেন, দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং উগ্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।

ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী কূটনৈতিক মিশনগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

“একটি দায়িত্বশীল সরকার হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। অথচ ইউনুসের সরকার দুষ্কৃতীদের রেয়াত দিচ্ছে, বরং তাদের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে তুলে ধরছে,” বলেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং ভারতীয় কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সুরক্ষা নিয়ে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক অভিযোগ নয়—এটি বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি শক্ত আন্তর্জাতিক বার্তাও।