কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১৮ ডিসেম্বর

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচন সামনে। এর মাঝেই প্রতিবেশী ভারতকে সরাসরি কড়া বার্তা দিল ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৌহিদের দাবি, ভারতের পক্ষ থেকে নির্বাচন বিষয়ে ‘নসিহত’ দেওয়া হচ্ছে— যা বাংলাদেশ কোনওভাবেই গ্রহণ করবে না।

বুধবার বিদেশ মন্ত্রকে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে তৌহিদ বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে, তা নিয়ে আমরা কারও উপদেশ চাই না। আমরা একটি সুষ্ঠু ও ভালো নির্বাচনের পথে এগোচ্ছি। এই মুহূর্তে কাউকে নসিহত করার কোনও প্রয়োজন নেই।”

এর পরেই তিনি অভিযোগ করেন, “ভারত আমাদের নির্বাচন নিয়ে উপদেশ দিচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তারা জানে, বিগত ১৫ বছর যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে ভারতের খুবই মধুর সম্পর্ক ছিল। তখন যে নির্বাচনগুলো প্রহসনমূলক ছিল, তাদের সে সময় ভারত একটি শব্দও বলেনি।”

ঠিক একই দিনে সকালে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাকে তলব করে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। কারণ— বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লার এক প্রকাশ্য সভায় ভারতবিরোধী উত্তেজক বক্তব্য।

হাসনাত তাঁর বক্তৃতায় ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ডাক দেন। দাবি করেন, বাংলাদেশ উত্তর-পূর্ব ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেবে।
এর পরই দিল্লি ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়।

উল্লেখ কয়েক দিন আগেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রণয় বর্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশ। অভিযোগ— ভারতে অবস্থানরত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় বিঘ্ন ঘটাতে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।

ইউনূস সরকারের দাবি ছিল, ভারতের ভূমিকা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে, তাই কঠোর নজর রাখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে হবে জুলাই সনদ গণভোট। নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই দেশে বাড়ছে সহিংসতা।

  • ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ ওসমান হাদি।

  • বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী ভাষণ দিচ্ছেন।

  • বিদেশি নাগরিক, বিশেষত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • মার্কিন দূতাবাসও হুঁশিয়ারি দিয়েছে— ভোটের আগে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হতে পারে।

এসবের মাঝেই দুই প্রতিবেশীর কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হচ্ছে, যা নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে মত।