কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা /ঢাকা :১৮ নভেম্বর
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) সোমবার যে রায় ঘোষণা করল, তা শুধু রাজনৈতিক বিতর্কই নয়, বরং দেশের বিচারব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তুলে দিল।
ট্রাইব্যুনাল–১-এর তিন সদস্যের বেঞ্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সরকারের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক IGP চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন— এই তিনজনকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ দোষী ঘোষণা করেছে।
যদিও সম্পূর্ণ রায় পাঠানো এখনও শেষ হয়নি, তবুও আদালতের ভাষ্য— জুলাই ২০২৪-এ ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থান দমনে 'হত্যা, দমন-পীড়ন ও অমানবিক আচরণের নির্দেশে' সরকার ব্যর্থ হয়েছে বা প্রত্যক্ষভাবে দায়ী।
রায় ঘোষণা এগোতেই ঢাকার ICT আদালত চত্বর থেকে সরাসরি সম্প্রচারে দৃশ্যমান হয় জমায়েত নিরাপত্তা, আদালতের ভিড় এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (BTV)-এ সরাসরি সম্প্রচার হওয়ায় এই ঘটনা দেশে-বিদেশে অভূতপূর্ব মনোযোগ কাড়ে।
এদিকে ঢাকার রাস্তায় ছিল অপ্রত্যাশিত নিরাপত্তাব্যবস্থা—
-
রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
-
বহু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ
-
সন্ধেয় জারি হয় “শুট-অ্যাট-সাইট” (দেখামাত্র গুলি) নির্দেশ, বিশেষত দুষ্কৃতী, আগুন লাগানো এবং ককটেল হামলা ঠেকাতে
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং ঢাকার আদালত সূত্রে জানা যায়—
ফরমাল চার্জশিটের আয়তন ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা, যার মধ্যে রয়েছে—
-
ঘটনায় নিহত ও আহতদের তালিকা
-
ভিডিও, অডিও ও ডিজিটাল প্রমাণ
-
নিরাপত্তাবাহিনীর রিপোর্ট
-
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান
-
সরকারি নথি
-
অভিযুক্তদের ভূমিকা ব্যাখ্যা
অভিযোগের মূল পাঁচটি ধারা—
-
হত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থতা
-
রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে দমনপীড়নের অনুমোদন
-
জোরপূর্বক গ্রেফতার–নির্যাতন
-
শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনকে ‘অপশক্তি’ আখ্যা দিয়ে দমন
-
গণহত্যার মতো অপরাধে ‘সরাসরি বা নৈতিক দায়বদ্ধতা’
বাংলাদেশে ফেরেননি শেখ হাসিনা। আদালতের বারবার সমন সত্ত্বেও তিনি হাজিরা দেননি। আদালতের ভাষায় এই অনুপস্থিতি ‘ফরার অবস্থান’।
আসাদুজ্জামান কামালও পলাতক বলে উল্লেখ করেছে আদালত।
অপরদিকে প্রাক্তন IGP চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন—যিনি বর্তমানে জেলে—দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্র পক্ষের সাক্ষী হয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর এ প্রথম কোনও অভিযুক্ত এমন স্বীকারোক্তি দিলেন।
ICT রায় ঘোষণার আগের রাতেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছড়ায় আতঙ্ক।
-
একাধিক জায়গায় আগুন লাগানো
-
ককটেল বিস্ফোরণ
-
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
-
শহরে চলছে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট— আওয়ামি লিগের আহ্বানে
নরায়ণগঞ্জে গত ৩৬ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২১ জন আওয়ামি লিগ নেতা–কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রায়ের পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা।
হাসিনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি—
এই মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তৈরি, এবং তাঁকে ও আওয়ামি লিগকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতেই ট্রাইব্যুনাল ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন—
“এই রায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। আমি কোনও অপরাধ করিনি। ছাত্রদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ আমি কখনও দিইনি।”
সর্বোপরি বাংলাদেশর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন থেকেই যায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় বাংলাদেশের—
-
রাজনৈতিক স্থিতি
-
গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো
-
বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা
-
ভবিষ্যৎ নির্বাচনের পথ
সবই আরও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
দেশজুড়ে বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপ, মানবাধিকার সংগঠনের নজরও আরও তীক্ষ্ণ।
Continue With Google
Comments (0)