ঢাকা থেকে ভেসে এল শোকের সংবাদ। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন Khaleda Zia আর নেই। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার Evercare Hospital-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বিএনপি সূত্রে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা নাগাদ, ফজরের নামাজের ঠিক পরেই প্রয়াত হন খালেদা জিয়া। দলের তরফে ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়,
“আমাদের প্রিয় জাতীয় নেত্রী আর আমাদের মধ্যে নেই। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং সবাইকে তাঁর জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানাই।”
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই লিভারের সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, বুকে সংক্রমণ ও হৃদ্রোগে ভুগছিলেন তিনি। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং পরে ২০০১ থেকে ২০০৬—দু’দফায়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতায় আসা দ্বিতীয় মহিলা সরকারপ্রধান।
উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের Dinajpur জেলায় ১৯৪৫ সালে জন্ম খালেদার। ১৯৬০ সালে তাঁর বিয়ে হয় মুক্তিযুদ্ধের বীরনায়ক ও বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর সঙ্গে। ১৯৭৭ সালে তিনিই গড়ে তোলেন Bangladesh Nationalist Party।
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে দলের ভাইস-চেয়ারপার্সন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপার্সন হন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল উত্থান-পতনে ভরা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী Sheikh Hasina-র সঙ্গে বহু নির্বাচনী লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হলেও খালেদার দাবি ছিল—সব অভিযোগই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আনা।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টে শেষ দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি পান খালেদা জিয়া। এরপর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমতিতে দেশে ফেরেন। দীর্ঘদিন বিদেশযাত্রার অনুমতি না পাওয়ার পর এই ছাড় ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
এই মাসেই দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরেন তাঁর পুত্র রহমান তারেক। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
খালেদা জিয়ার প্রয়াণ মানে কেবল একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিদায় নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান। তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা নেত্রী, বিরোধীদের কাছে কঠিন প্রতিপক্ষ। ইতিহাসে তিনি থেকে যাবেন—এক সংগ্রামী নারী নেতা হিসেবে, যিনি পুরুষশাসিত রাজনীতির মঞ্চে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন।
Comments (0)