কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৬ ডিসেম্বর

বাংলাদেশে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার মাঝেই ফের এক হিন্দু যুবকের পিটিয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক। তবে এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নয় বলেই দাবি করল অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের বক্তব্য, মৃত ব্যক্তি অপরাধমূলক কার্যকলাপ ও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আর সেই কারণেই ক্ষুব্ধ জনতার হাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা Muhammad Yunus-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের তরফে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করা হলেও এটিকে “কোনও ভাবেই সাম্প্রদায়িক আক্রমণ বলা যায় না”। সরকার দাবি করেছে, একটি বিশেষ মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “পুলিশের দেওয়া তথ্য এবং প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট, এটি কোনও সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। এটি তোলাবাজি ও সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত একটি ঘটনা।”

সরকার আরও দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট একজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’। তাঁর বিরুদ্ধে একটি সক্রিয় অপরাধচক্র গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এলাকায় তোলাবাজির উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলে দাবি প্রশাসনের।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বুধবার রাজবাড়ি জেলার Pangsha এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, অমৃত মণ্ডল ও তাঁর সহযোগীরা এক বাসিন্দার বাড়িতে গিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন। তখনই ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ধরে মারধর করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় অমৃত মণ্ডলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে রাত প্রায় ২টো নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার Debrata Sarkar।

মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে Rajbari Sadar Hospital-এ।

ঘটনার পর অমৃত মণ্ডলের বেশির ভাগ সহযোগী পালিয়ে গেলেও পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম সেলিম। তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অমৃত মণ্ডলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অন্তত দুটি মামলা ছিল, যার মধ্যে একটি খুনের মামলাও রয়েছে।

অন্যদিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, “সরকার কোনও ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ, গণপিটুনি বা হিংসাকে সমর্থন করে না।” একই সঙ্গে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে সরকারের কড়া ভাষায় অভিযোগ, একটি বিশেষ অংশ মৃত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এই ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে প্রশাসন।

এই ঘটনা ঘটল এমন এক সময়ে, যখন ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক Dipu Das-কে পিটিয়ে খুন ও দেহে আগুন লাগানোর ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন মহলে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দীপু দাসের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এবং ভারতের কয়েকটি শহরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়। ভারত সরকারও ওই ঘটনার পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, দীপু দাসের স্ত্রী, বাবা-মা এবং নাবালক সন্তানের দায়িত্ব সরকার নেবে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দু’জন হিন্দু ব্যক্তির পিটিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশে হিংসা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। একদিকে সরকার এই ঘটনাকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফল বলে ব্যাখ্যা করছে, অন্যদিকে বিরোধী মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।