কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা /ঢাকা :১৮ নভেম্বর 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) রায় ঘোষণার পর দিনই সরব হলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার একটি পাঁচ পাতার বিস্তৃত বিবৃতি প্রকাশ করে তিনি জানান— তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, পক্ষপাতদুষ্ট এবং গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র’।

হাসিনার অভিযোগ, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁদের রাজনৈতিকভাবে সরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর, আর সেই উদ্দেশ্যেই “রিগড ট্রাইব্যুনাল” তৈরি করে রায় নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে ক্ষোভ ঝাড়তে গিয়ে হাসিনা বলেন—

“একটি অনির্বাচিত সরকারের অধীনে তৈরি একটি পক্ষপাতদুষ্ট ও রিগড ট্রাইব্যুনালই এই রায় দিয়েছে। এই রায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। মৃত্যুদণ্ডের আহ্বান প্রমাণ করে— সরকারের চরমপন্থী শক্তিগুলি বাংলাদেশের শেষ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়।”

৭৮ বছরের হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ICT-এর ৪৫৩ পাতার রায়ে বলা হয়েছিল, গত বছরের জুলাই–আগস্টের অস্থিরতার সময়ে তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে নির্দেশদাতা’ হিসেবে দায়ী। তবে হাসিনার দাবি—

“জুলাই–আগস্টে ঘটে যাওয়া প্রতিটি মৃত্যুই আমি শোক করি। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই আমি বা আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীরা পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিইনি।”

বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন—

  • তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি

  • নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে

  • ট্রাইব্যুনালের নামে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি থাকলেও এর বিচারিক মান আন্তর্জাতিক নয়, বরং ‘পুরোটাই পক্ষপাতদুষ্ট’

তিনি দাবি করেন, ICT প্রসিকিউশনে এমন কোনও “প্রমাণযোগ্য তথ্য” নেই যা দেখাবে তিনি কখনও সামরিক বা পুলিশি শক্তিকে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।

একই মামলায় আরও কঠোর সাজা ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল—

  • সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড

  • সাবেক IGP চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন পাঁচ বছরের সাজা পেয়েছেন, যদিও একই অভিযোগে তাঁর সাজা ‘সুবিবেচনার ভিত্তিতে’ কমানো হয়েছে

এই বৈপরীত্যও দেশজুড়ে প্রশ্ন তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি রায় ঘোষণার পর থেকেই বিচারিক স্বচ্ছতা এবং বিচার ব্যবস্থার রাজনৈতিক ব্যবহারের অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে।

রায় ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা-সহ বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হচ্ছে। বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন—
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এখন গভীর প্রশ্নের মুখে।