ইরানে লাগাতার বিক্ষোভ, দমন-পীড়ন ও ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের জন্য জারি করল কড়া সতর্কতা। সোমবার এক বিবৃতিতে US State Department জানিয়ে দিয়েছে— “এখনই ইরান ছাড়ুন”। তেহরানে অবস্থিত মার্কিন ভার্চুয়াল এমবাসির পক্ষ থেকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষমতা তাদের নেই। তাই পরিস্থিতির ঝুঁকি বিচার করে নিজেরাই দ্রুত দেশ ছাড়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
তেহরানে অবস্থিত মার্কিন ভার্চুয়াল এমবাসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে,“ইরানে মার্কিন নাগরিকরা জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার ও দীর্ঘমেয়াদি আটক হওয়ার বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। শুধুমাত্র মার্কিন পাসপোর্ট বহন করাই আটক হওয়ার কারণ হতে পারে।”
বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, দেশ ছাড়ার সময় শুধু ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। যারা কোনও কারণে দেশ ছাড়তে পারছেন না, তাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে, পর্যাপ্ত খাদ্য, জল, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে।
-
মূল দাবি: রাজনৈতিক সংস্কার, বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধি রোধ
-
অর্থনৈতিক সংকট: পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার জেরে ইরানের মুদ্রা রিয়াল ভয়াবহভাবে দুর্বল
মার্কিন মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই বিক্ষোভে ৬০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজার হাজার মানুষকে আটক করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরান সরকার বহু জায়গায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছে।
এই অস্থিরতার মধ্যেই আবার তীব্র হয়েছে ইরান ও আমেরিকার সম্পর্ক। গত বছর জুনে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘর্ষের পর থেকে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানান,“ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সামনে শক্তিশালী বিকল্প রয়েছে— প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপও।”
এর পাল্টা জবাবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,“যে কোনও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মসম্মান রক্ষায় ইরান প্রস্তুত।”
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকা বা ইজরায়েল হস্তক্ষেপ করলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ও ইজরায়েলি ঘাঁটি ‘বৈধ লক্ষ্য’ হয়ে উঠবে।
ইরানের হাতে রয়েছে দীর্ঘপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ছাড়াও লোহিত সাগর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে গোটা অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলায় ডুবে যেতে পারে।
বিশ্ব কূটনীতিক মহলের আশঙ্কা,
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ফের একটি বড় যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে কি না, সে প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।
Comments (0)