কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১৯ ডিসেম্বর

 

বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর শুক্রবার জুড়ে ভয়াবহ অস্থিরতা, বিক্ষোভ এবং সহিংসতার ছবি দেখা গেল ঢাকাজুড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই উত্তাল আবহে বিক্ষোভকারীদের একাংশ প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার-সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় ও ভাঙচুর চালায়।

১২ ডিসেম্বর ঢাকার প্রচারসভায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই গুরুতর অবস্থায় ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ছাত্র আন্দোলনের প্রতীকী নেতা শরিফ ওসমান হাদি। দ্রুত তাঁকে এয়ারলিফট করে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ জনতা ঢাকার শাহবাগ, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়, কাচ ভাঙচুর করে, অগ্নিসংযোগ ঘটায়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় ভবনের ভেতর। ভেতরে আটকে পড়া সাংবাদিকেরা সামাজিক মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানান।

ডেইলি স্টার ভবন থেকে অন্তত ২৫ জন সাংবাদিককে চার ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়, এমনটাই জানিয়েছে বিডিনিউজ।

https://twitter.com/i/status/2001839333066915930

অন্যদিকে, করওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো কার্যালয়েও ব্যাপক ক্ষতি হয়। ভাঙচুরের পর হামলাকারীরা ভবনে অগ্নিসংযোগ ঘটায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

হাদি-র মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার রাতেই বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় ভাষণে বলেন—“আজ আমি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক সংবাদ নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। জুলাই আন্দোলনের অগ্রসৈনিক, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি আর আমাদের মাঝে নেই।”

তিনি আরও জানান, হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে এবং কোনওরূপ ‘সহনশীলতা’ দেখানো হবে না। একই সঙ্গে তিনি সকল নাগরিককে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

এপি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাদি-র মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শাহবাগ চত্বরে ছাত্র–যুবদের ঢল নামে, “হাদি, হাদি” স্লোগানে মুখরিত হয় রাস্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংগঠন জাতীয়া ছাত্র শক্তি কালো ব্যাজ পরে শোক মিছিল করে শাহবাগে পৌঁছয়।

কিন্তু সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়—দুটি সংবাদপত্র ভবনের সামনে সেনা ও বর্ডার গার্ড মোতায়েন করা হলেও তারা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, বলে এপি জানিয়েছে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কট চরমে উঠছে। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য নড়বড়ে হয়ে রয়েছে। হাদির মৃত্যু সেই উত্তপ্ত পরিবেশকে আরও উসকে দিয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি এক অনিশ্চিত, অস্থির পর্যায়ে দাঁড়িয়ে— যেখানে বিচার দাবি, ক্ষোভ, বিক্ষোভ এবং সংবাদমাধ্যমে হামলার মতো ঘটনা দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক পথচলা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলছে।