কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা /নায়দিলি :১৮ নভেম্বর
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে দাবি জানাল—ভারতের মাটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে ঢাকায় ফিরিয়ে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) রায় ঘোষিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নতুন বিবৃতি প্রকাশ করে। একইসঙ্গে প্রত্যর্পণের তালিকায় রাখা হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও, যাঁর বিরুদ্ধেও এসেছে মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়—
ভারত “দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” অনুসারে নীতিগতভাবেই এই প্রত্যর্পণে বাধ্য। বাংলাদেশের বক্তব্য, ভারতের মাটিতে একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়ে রাখা “বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহারের পরিপন্থী”।
সরকারের অভিযোগ, শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই ICT রায় দিয়েছে। প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি সাক্ষী হয়েছিলেন, তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত ,রায় ঘোষণার পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়—
“বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় আমরা লক্ষ্য করেছি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।”
ভারত কোনোভাবেই ইঙ্গিত দেয়নি যে তারা প্রত্যর্পণে এগোচ্ছে। বরং কূটনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ভঙ্গিতে “সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলার” আশ্বাসেই থেমে গেছে দিল্লি।
গত আগস্ট ২০২৪ সাল থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এর আগে ঢাকার তরফে কয়েকবার তাঁর প্রত্যর্পণ চাওয়া হলেও এবার প্রথমবারের মতো একই দাবিতে যুক্ত হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালও।
ICT-র রায় ঘোষণার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন—
এই আদালত “ন্যায়বিচারবিহীন”, এই সরকার “অগণতান্ত্রিক”, এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে।
তাঁর দাবি,
“আমি বা আমার কোনো রাজনৈতিক সহকর্মী কখনওই আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিইনি।”
হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে সঠিক আইনি সুযোগ না দিয়েই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
বলাই বাহুল্য বাংলাদেশের নতুন সরকারের চাপ বাড়ছে, ভারত তার কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখছে, আর আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোয়। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দিল্লির কৌশলগত সিদ্ধান্ত—দুই-ই এখন চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে।
Continue With Google
Comments (0)