কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  : কলকাতা :০১ জুন  ২০২৬

বর্ষা এখনও রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ না করলেও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে। প্রতি বছর বর্ষার সময় উত্তর-পূর্ব কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় জল জমার সমস্যায় নাজেহাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ভিআইপি রোড সংলগ্ন কৈখালি, চিনার পার্ক ও হলদিরাম মোড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হয় চরম দুর্ভোগ। সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান খুঁজতেই সোমবার সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী Agnimitra Pal।

মন্ত্রীকে ঘিরে এদিন উপস্থিত ছিলেন বিধাননগর পুরনিগম, কেএমডিএ এবং হিডকোর শীর্ষ আধিকারিকরা। ভিআইপি রোডের অন্যতম ব্যস্ত এই সংযোগস্থল বর্ষার সময় কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী মানুষ, সকলকেই প্রতিবছর চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরকে আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

এ বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন নিয়ে আবহাওয়া দপ্তরের একাধিক পূর্বাভাস ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণত জুন মাসের শুরুতেই দেশে বর্ষার আগমন ঘটে। কিন্তু জুনের শুরু হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বর্ষার দেখা মেলেনি। তবে বর্ষা কবে প্রবেশ করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। সেই কারণেই জল জমা প্রবণ এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, এদিন জলসম্পদ ভবনে সেচ দপ্তর-সহ একাধিক সরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেন মন্ত্রী। বৈঠকে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার একাধিক জলাবদ্ধতা প্রবণ অঞ্চলকে ‘হট স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চিংড়িঘাটা, বাগজোলা খাল সংলগ্ন এলাকা, কেষ্টপুর খালের আশপাশ, ধাপার পিছনে চৌবাগা পাম্পিং স্টেশন এলাকা, চড়িয়াল খাল, মণি খাল এবং বেগোর খালের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত খালের সংস্কার, পলি অপসারণ এবং জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

সরকারি মহলের মতে, জল জমার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে খাল ও নিকাশি ব্যবস্থার সক্ষমতা হ্রাস। ফলে বর্ষার সময় অতিরিক্ত জল দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে না। সেই সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পাম্প মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে জল নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ টিমও প্রস্তুত রাখা হবে।

বৈঠকের পর মন্ত্রী নিজে কৈখালি এবং হলদিরাম মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘ব্ল্যাক স্পট’ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের সময় তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, একসময় এই এলাকায় যে ম্যানহোলগুলি ছিল, সেগুলির অনেকগুলিই পেভার ব্লক দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে কোথায় ম্যানহোল রয়েছে, তা চিহ্নিত করতেই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। তাঁর বক্তব্য, ভোটের রাজনীতির কারণে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের ফল আজ সাধারণ মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে।

একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিকাশি ব্যবস্থার উপরও জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কোনও অবস্থাতেই ম্যানহোল পরিষ্কারের কাজে মানুষকে নামানো হবে না। পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে নর্দমা ও ম্যানহোল পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এতে যেমন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনই কাজের গতি ও দক্ষতাও বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন।

বর্ষা আসার আগেই জলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে এই প্রস্তুতি সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এলাকাবাসীর একাংশ এখনও সতর্ক। তাঁদের আশা, এবার শুধু বৈঠক বা পরিদর্শনে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন, যাতে সামান্য বৃষ্টিতেই ভিআইপি রোড ও তার সংলগ্ন অঞ্চলগুলিকে আর জলমগ্ন হতে না হয়।